নিরুৎসাহিত না হয়ে এগিয়ে চলুন- (Motivational)

Home / Publications / Article / নিরুৎসাহিত না হয়ে এগিয়ে চলুন- (Motivational)
তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল

আপনার আশপাশে এমন অনেক কিছু,  এমন অনেক মানুষ আছে যাদের আকার ইঙ্গিত, কর্মকান্ড আপনাকে বহুবার নিরুৎসাহিত করবে। তারা আপনাকে কারণে অকারণে হেয় করবে যেন আপনি মানসিকভাবে ভেঙে পরেন! একই পরিমণ্ডলে কর্মরত জনগোষ্ঠী দেখবেন জাতি-ধর্ম-বর্ণ-কর্ম নির্বিশেষে বহুভাগে বিভক্ত যার কোনটাতেই প্রাথমিক প্রবেশাধিকার পাবেন না। ছোটছোট যেই দল গলিতে তারা বিভক্ত তার মাঝেও উপদল, যেখানে আরও নির্দিষ্টতা থাকে যেমনঃ  ওমুক ভার্সিটি, অমুক জেলা, অমুক উপজেলা!  আপনি বেচারা কোথায় যাবেন! আপনার স্থান কোথায়। হয়ত দেখবেন আপনার নিজের এলাকার পরিচিত একজন গায়ে নীল রঙ মেখে নীল দলে অবস্থান করছে, আর সে কোনভাবেই আপনার কোন উদ্যোগকে উৎসাহতো দিচ্ছেইনা বরং আপনাকে চরম ভাবে উপেক্ষা করছে। এমনকি হাজার চেষ্টা করেও আপনি তার পক্ষ থেকে কোন সারা পাচ্ছেন না। এটাই স্বাভাবিক,  আপনাকে মেনে নিতে হবে যে উনি এখন নীল দলের আর আপনি ইচ্ছা করলেই নীল দলে যেতে পারবেন না! সেটা উচ্চবংশীয় দল। হাই প্রোফাইল। আরেকটি  বিষয়,  হয়ত আপনার সেই পরিচিত জন আপনাকে শিশু দেখেছিল তাই এখনো আপনাকে শিশুই ভাবে! কথাগুলি মিলিয়ে নিন কাজে লাগবে। ধরেন আপনি একটা উদ্যোগ নিলেন যে অনেকেই তো সাথে আছে কিছু একটা করা যাক, পরে শুরুর পর দেখলেন আশেপাশের অনেকেই হাওয়া।  আমরা সবাই প্রচণ্ড স্বার্থপর, এই কথাটি সবসময় মাথায় রাখা বাঞ্ছনীয়!  এখন বলতে পারেন যে মানুষগুলি একই পরিমন্ডলে কাজ করেন তাদের মধ্যে এত ভেদাভেদ কেন? এর পিছনে রয়েছে ক্ষমতা, দ্বিমত,  মানসিকতার ব্যবধান। আপনি যদি একজন লেখক হন আপনাকে একটি বিষয় লক্ষ্য করতে বলবো দেখবেন যে,  আজ গুগল মামার বদৌলতে অনেকেই অনেক বড় মাপের কথাবার্তা দিয়ে অনেক কিছু লিখছে, ভাবেন যদি ইন্টারনেট ব্রাউজিং কারণবশত  বন্ধ থাকে তখন একটা লেখা লিখতে বললে বেচারার কি অবস্থা হবে! এতো সহজ! এক্ষেত্রে পরামর্শ একটাই লেখার মাধ্যমে পাঠক সমাজে নিজের একটা পরিচয় তৈরী করতে হবে তখন যে কেউ চাইলেই আপনাকে অস্বীকার করতে পারবে না। আপনি যদি হন ট্রেইনার, আর ট্রেইনারদের সংগঠনে স্থান পাচ্ছেন না, আপনি সর্বপ্রথম যারা আপনার প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন তাদের মাঝে গ্রহনযোগ্যতা তৈরী  করুন, কারণ আপনার প্রাপ্তি সেখানেই নিহীত। যদি হন এইচ আর প্রফেশনাল আগে নিজের কর্মক্ষেত্রে নিজের একটা অবস্থান তৈরী করুন, কর্মীদের মাঝে আপনার জন্য একটা আস্থা, শ্রদ্ধার ক্ষেত্র তৈরি করুন, সেটাই আপনার কাজ।  আপনার ঘর ঠিক না থাকলে বাইরে এতো আয়োজনের কি আর মুল্য রইলো!  মনে রাখবেন মানুষ মাত্রই রিপু রয়েছে লোভ, হিংসা, ক্রোক,  ঘৃণা ইত্যাদি দ্বারা সে প্রভাবিত, আমাদের ভেতরটা এসবে ভরপুর আর এগুলি থেকেই আমাদের মাঝে জয়ী হওয়ার বুনো নেশার সৃষ্টি হয়। আর সেক্ষেত্রে সম্পর্ক,  মায়া,  মমতা,  ভালবাসা সব ঠুনকো হয়ে যায়!  আশেপাশে এহেন আচরণ আপনাকে নিরুৎসাহিত করছে।  হয়ত মনে হচ্ছে কিছুই সম্ভব নয়।  ভুল! আপনি আপনার কাজটা করে যান সেটার প্রতি সৎ থাকুন। মনে রাখবেন আপনার ভাল কাজের পুরস্কার প্রাপ্তি হবেই, হয় আজ নয় কাল। হয়ত বর্তমান কর্মক্ষেত্রে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তড়িৎ কোন ফল আসবেনা কিন্তু কাজের মাধ্যমে যে শিক্ষা, যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তার স্বীকৃতি আপনি পাবেন।  নিগ্রহের শিকার বহু মানুষ রয়েছে যারা পরবর্তীতে অন্যের চলার পথের আদর্শ হয়েছে।  আপনার প্রচেষ্টা আপনার শ্রম কখনো বৃথা যাবেনা। অদৃশ্য, নিরাকারের প্রতি বিশ্বাস রাখুন, কাজ চালিয়ে যান। একটা শেষ বুদ্ধি দিই কাজে লাগলেও লাগতে পারে, আপনার চারিপাশে সকল মানুষের এমনকি আপনার মাঝেও অনেক স্বভাব রয়েছে যা অপছন্দ করার জন্য যথেষ্ট! এক্ষেত্রে সকলের ভাল দিকটি আগে খোঁজার চেষ্টা করতে হবে, তাহলে অনুভূতিটা প্রশমিত হবে। যেমন অমুক ভাই আপনি বলার পরও সারা দিচ্ছেনা। মনে মনে ভাবুন হয়ত তিনি ব্যস্ত আছেন, তিনি তো এমন নয়, তিনি তো অনেকের উপকার করেন। এটা বলে মনকে সান্তনা দেয়া। আর কোন একটি ঘটনা বা অবস্থার প্রেক্ষিতে কাউকে বিবেচনা করাও সমীচীন নয়। বিষের যাতনা সহ্য করতে শিখুন ছাইপাঁশ বিষ এখন চারিপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মনে,খাবারে, বাতাসে, চলার পথে সবকিছুতেই বিষ আছে। জীবনে খুব সহজেই হেরে যাওয়া যায় কিন্তু হেরে গিয়েও ঘুরে দাঁড়ানোই নিজের প্রতি আস্থাশীলতা বাঁড়ায়।

মানবসম্পদ প্রশিক্ষক, লেখক, সংগীত শিল্পী

 

Please follow and like me
500

Leave a Reply

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial